ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ করিম ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদ আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।
তিনি জানান, দুই দফায় ৯ দিনের রিমান্ড শেষে রুবেলকে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) এর সহকারি পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। রুবেল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালতে হাজির করে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা।
ওইদিন রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি মো. রুবেল আহমেদ এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ রাহুল দাউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই চলছে। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। একপর্যায়ে শুনানি শেষে ওইদিন বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রুবেলের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরবর্তীতে রিমান্ড শেষে হাজির করা হলে গত ২৮ জানুয়ারি আদালত দ্বিতীয় দফায় রুবেলের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সবশেষ রোববার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান বিন হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হন তিনি।
পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে এটা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।












